বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
বিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে ভারতের কোম্পানি আদানির সঙ্গে করা চুক্তি দেশবিরোধী বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই চুক্তি জনগণ বিরোধী। অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। ‘মহাবিপর্যয়ে বিদ্যুৎ খাত: গভীর খাদে অর্থনীতি’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজক অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা ঠিক করে নিয়েছে বিদ্যুৎ খাত থেকে সবচেয়ে বেশি চুরি করবে। তারা যা করে, সেটা পরিকল্পিতভাবেই করে। তারা ক্ষমতায় এসে বলতে শুরু করল, বিদ্যুৎ খাতে বিএনপি সরকার কিছুই করেনি, শুধু খাম্বা তৈরি করেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব বলে জায়েজ করল তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট জায়েজ করতে তারা এসব প্রোপাগাণ্ডা শুরু করল।
আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়টি তারা গোপন রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লুট আর লুট, এখানে আর কিছু নেই। এটাকে (লুট) ঠেকানোর জন্য, বাংলাদেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে আসতে হবে। সিভিল সোসাইটিকে এগিয়ে আসতে হবে, ব্যক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া আমাদের বাঁচার কোনো পথ নেই।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে পদত্যাগ করার জন্য। এ ছাড়া এই দেশ বাঁচবে না। এজন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থায় চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনি যদি হাসপাতালগুলোতে যান সাধারণ মানুষে যে কি কষ্ট আপনি চিন্তা করতে পারবে না। আমি কিছু দিন আগে আমার এক আত্মীয়কে দেখতে পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। দেট ইজ বেস্ট হসপিটাল ইন দ্যা কান্ট্রি। ওখানে দেখি যে কেবিন সেই কেবিনে চেয়ার একটা ছিল দেয়ালের সঙ্গে লাগানো। আমি বসতে গেলে আমার আত্মীয় বললেন, ওই চেয়ারে বইসেন না, ওটার একটা পায়া ভাঙা।
এই দেশ ডিপ স্টেট তৈরি গেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। নিরবকে আগে, গতকাল মুন্না (মোনায়েম মুন্না ও এসএম জাহাঙ্গীর) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো ওয়ারেন্ট নাই, গোলমাল নাই। আজকে গোটাকে দেশ একটা ডিপ স্টেট তৈরি করে ফেলেছে। সার্বেলেন্স।
গোলটেবিল আলোচনা থেকে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলো হলো- বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন বাতিল করতে হবে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের সকল দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, রেন্টাল বা কুইক রেন্টাল কম্পানির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন বন্ধ অথবা বাতিল করতে হবে, অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন স্থাপন করতে হবে, যাতে ক্যাপসিটি চার্জ কমানো যায়, সংকট মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স ইত্যাদি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে দেশীয় খনিজ কয়লা ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।
এ ছাড়া দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে উপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতকে টেকসই ও নিরাপদ করতে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে ক্রমান্বয়ে মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি নির্ভর জ্বালানিনীতি গ্রহণ করা, অবৈধ ও অস্বচ্ছ টেন্ডারবিহীন বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিল করা, ক্ষেত্র বিশেষে চুক্তি সংশোধন করে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা, দেশের শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক অথবা আবাসিক এবং অন্য ক্ষেত্রে বিদ্যুতের চাহিদা নিরূপণ করে আগামী ২৫ বছরের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণের ধারাবাহিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা, বিদ্যুৎ সেক্টরের সকল ক্রয়-বণ্টন চুক্তির পূর্ণ তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাব মহাসচিব হাছিন আহমেদ। এ সময় অ্যাব সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বকুল, বাংলাদেশ পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী।